গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২

“নীলে হারায়”





নীলে হারায়


।।এক।।
নীল, তুমি এমন কেন? তুমি কি একটুও আমাকে বোঝ না? তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য, তোমার হাতে হাত রেখে পথ চলার জন্য, তোমার লোমশ বুকে মুখ ঘষবার জন্য আমার মনটা আকুলি বিকুলি করে! তোমার সেই প্রশ্নটা "বিয়ে করছো না কেন?" উত্তরটা কি জানো না তুমি নাকি হেঁয়ালি করো? বিয়ে তো করতেই চাই। চাই একটি সাজানো গোছানো সংসার। কিন্তু, বিয়ের প্রস্তাবগুলো এলে মনে হয়, না না, আমার এখন বিয়ে করার অবসর নেই। আমার আরেকটু সময় দরকার। আরেকটু!

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২

একদিন স্বপ্নের দিন



কথাতো প্রায় প্রতিদিনই হয়। হচ্ছে সেই এক বছর, কিংবা তার বেশিও হতে পারে। কিন্তু দেখা হয়নি। একবার অনেক জোরাজুরির পর নিজের ফটো পাঠিয়েছিল ইমেইলে। তাও শুধু এক পলক দেখেই ডিলিট করে দেয়ার শর্তে!

মাঝে হারিয়ে গিয়েছিল প্রায় এক বছর? না না , এক বছর নাহ! আমার নেপাল শিক্ষা সফরের দিনও সকালে ফোন করেছিল। তবে আর যোগাযোগ না করার শর্ত জুড়েছিল!!

ও এক পশলা বৃষ্টির মত আমার কাছে আসে যায়। আসে! যায়! চলে যায়। আবার ফিরে ফিরে আসে! এ এক অন্য রকম!

রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১২

মিছিল

পেয়ারার ডালে পা ঝুলিয়ে কে বসে আছে তা অনুমান করতে খুব একটা কষ্ট হলো না। বিচ্ছুটা সারাদিন ঐ পেয়ারার ডালে বসে গরুর জাবর কাটার মত পেয়ারা চিবাবে।

- এই নীলু, নিরো কোথায়রে? পেয়ারার ডাল ধরে একটু ঝুকে নীলু আমার দিকে তাকায়
- জানি না, দেখো গিয়ে কার উপকার করতে গেছে নিজের খেয়ে নীলুর কথা শুনলে মাঝে মাঝে গা জ্বলে।
এতটুকুন একটা মেয়ে সে কিনা বড়দের মত কথা বলে। নিরোটাকে খুব দরকার। কোথায় যে এখন খুজি! এলাকায় আছে, না অন্য এলাকায় আছে- কে জানে!
নিরো আমাদের বিচ্ছুদলের মধ্যে একেবারেই আলাদা। বাবা-মা নেই। নিজের মত করে বড় হয়েছে বলেই কিনা জানি না, তবে ওর মনটা বড় নরম। যেখানেই কোন মানুষের বিপদ-আপদের কথা শুনবে, ও ছুটে যাবে।

বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

সাধ একটি পারলৌকিক ডিম

দুপুরটা রঙচটা। বিবর্ণ। পাশের বাড়ির জানালায় ফটোকপি হয়ে ঝড়ে ঝড়ে পড়ছে ফ্যাকাসে রোদ। তাতে মিশেছে এক চিলতে সোঁদাগন্ধ। উৎস জানা নেই। বারান্দার টবে পাতাবাহারের গাছ ঘুমে ক্লান্ত। ধোঁয়া উঠছে সাফিদের টিনের চূড়া ভেদ করে। নাকে ঢুকছে মুগ ডালের গন্ধ। আহ্! সাথে একটু বোম্বে মরিচ হলে মন্দ হতোনা।

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১২

পান্তা ভাত



//এক//

-আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করে। আমি বুঝতে পারি না। কোনমতে কথাগুলা বললো ইমন।

-কেমন আচরণ? বিস্তারিত বলুন। গম্ভীর ভাবে বললেন সাইক্রিয়াট্রিস্ট ডঃ রওশন আরা।

ইমন মাথা নীচু করলো লজ্জায়। কিভাবে বলবে বুঝতে পারছে না। আজকে ছুটি নিয়ে সোজা অফিস থেকে চলে এসেছে। আপয়েন্টমেন্ট আগে থেকেই নেয়া ছিল। পুষ্প এখনও কিছু জানে না।

-কি হল বলুন? চুপ করে থাকলে আমি বুঝবো কি করে?

-ইয়ে মানে, আমাদের বিয়ে হয়েছে ৫ মাস হলো। এখনো আমি আমার স্ত্রীর ... বলে ইমন চুপ করে গেল।

-আপনাদের বিয়ে কিভাবে হয়েছে? পারিবারিক ভাবে?

-আমরা ক্লাসমেট ছিলাম। নিজেরা পছন্দ করেছি। পরে পারিবারিক ভাবে আমাদের বিয়ে হয়।

-আপনাদের মধ্যে ফিজিকাল রিলেশন হয় নাই এখনো, এটাই তো বুঝাতে চাইছেন তাই না? কাগজের উপরে কেস হিস্ট্রি লিখতে লিখতে জিজ্ঞাসা করলেন সাইক্রিয়াট্রিস্ট।

গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৮ জুন, ২০১২

“নীলে হারায়”





নীলে হারায়


।।এক।।
নীল, তুমি এমন কেন? তুমি কি একটুও আমাকে বোঝ না? তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য, তোমার হাতে হাত রেখে পথ চলার জন্য, তোমার লোমশ বুকে মুখ ঘষবার জন্য আমার মনটা আকুলি বিকুলি করে! তোমার সেই প্রশ্নটা "বিয়ে করছো না কেন?" উত্তরটা কি জানো না তুমি নাকি হেঁয়ালি করো? বিয়ে তো করতেই চাই। চাই একটি সাজানো গোছানো সংসার। কিন্তু, বিয়ের প্রস্তাবগুলো এলে মনে হয়, না না, আমার এখন বিয়ে করার অবসর নেই। আমার আরেকটু সময় দরকার। আরেকটু!

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২

একদিন স্বপ্নের দিন



কথাতো প্রায় প্রতিদিনই হয়। হচ্ছে সেই এক বছর, কিংবা তার বেশিও হতে পারে। কিন্তু দেখা হয়নি। একবার অনেক জোরাজুরির পর নিজের ফটো পাঠিয়েছিল ইমেইলে। তাও শুধু এক পলক দেখেই ডিলিট করে দেয়ার শর্তে!

মাঝে হারিয়ে গিয়েছিল প্রায় এক বছর? না না , এক বছর নাহ! আমার নেপাল শিক্ষা সফরের দিনও সকালে ফোন করেছিল। তবে আর যোগাযোগ না করার শর্ত জুড়েছিল!!

ও এক পশলা বৃষ্টির মত আমার কাছে আসে যায়। আসে! যায়! চলে যায়। আবার ফিরে ফিরে আসে! এ এক অন্য রকম!

রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১২

মিছিল

পেয়ারার ডালে পা ঝুলিয়ে কে বসে আছে তা অনুমান করতে খুব একটা কষ্ট হলো না। বিচ্ছুটা সারাদিন ঐ পেয়ারার ডালে বসে গরুর জাবর কাটার মত পেয়ারা চিবাবে।

- এই নীলু, নিরো কোথায়রে? পেয়ারার ডাল ধরে একটু ঝুকে নীলু আমার দিকে তাকায়
- জানি না, দেখো গিয়ে কার উপকার করতে গেছে নিজের খেয়ে নীলুর কথা শুনলে মাঝে মাঝে গা জ্বলে।
এতটুকুন একটা মেয়ে সে কিনা বড়দের মত কথা বলে। নিরোটাকে খুব দরকার। কোথায় যে এখন খুজি! এলাকায় আছে, না অন্য এলাকায় আছে- কে জানে!
নিরো আমাদের বিচ্ছুদলের মধ্যে একেবারেই আলাদা। বাবা-মা নেই। নিজের মত করে বড় হয়েছে বলেই কিনা জানি না, তবে ওর মনটা বড় নরম। যেখানেই কোন মানুষের বিপদ-আপদের কথা শুনবে, ও ছুটে যাবে।

বুধবার, ৪ এপ্রিল, ২০১২

সাধ একটি পারলৌকিক ডিম

দুপুরটা রঙচটা। বিবর্ণ। পাশের বাড়ির জানালায় ফটোকপি হয়ে ঝড়ে ঝড়ে পড়ছে ফ্যাকাসে রোদ। তাতে মিশেছে এক চিলতে সোঁদাগন্ধ। উৎস জানা নেই। বারান্দার টবে পাতাবাহারের গাছ ঘুমে ক্লান্ত। ধোঁয়া উঠছে সাফিদের টিনের চূড়া ভেদ করে। নাকে ঢুকছে মুগ ডালের গন্ধ। আহ্! সাথে একটু বোম্বে মরিচ হলে মন্দ হতোনা।

সোমবার, ১২ মার্চ, ২০১২

পান্তা ভাত



//এক//

-আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করে। আমি বুঝতে পারি না। কোনমতে কথাগুলা বললো ইমন।

-কেমন আচরণ? বিস্তারিত বলুন। গম্ভীর ভাবে বললেন সাইক্রিয়াট্রিস্ট ডঃ রওশন আরা।

ইমন মাথা নীচু করলো লজ্জায়। কিভাবে বলবে বুঝতে পারছে না। আজকে ছুটি নিয়ে সোজা অফিস থেকে চলে এসেছে। আপয়েন্টমেন্ট আগে থেকেই নেয়া ছিল। পুষ্প এখনও কিছু জানে না।

-কি হল বলুন? চুপ করে থাকলে আমি বুঝবো কি করে?

-ইয়ে মানে, আমাদের বিয়ে হয়েছে ৫ মাস হলো। এখনো আমি আমার স্ত্রীর ... বলে ইমন চুপ করে গেল।

-আপনাদের বিয়ে কিভাবে হয়েছে? পারিবারিক ভাবে?

-আমরা ক্লাসমেট ছিলাম। নিজেরা পছন্দ করেছি। পরে পারিবারিক ভাবে আমাদের বিয়ে হয়।

-আপনাদের মধ্যে ফিজিকাল রিলেশন হয় নাই এখনো, এটাই তো বুঝাতে চাইছেন তাই না? কাগজের উপরে কেস হিস্ট্রি লিখতে লিখতে জিজ্ঞাসা করলেন সাইক্রিয়াট্রিস্ট।